মোঃ মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম থেকে: আজ পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদের খুশিতে যখন সবাই ব্যস্ত বাহারী ভোজ বিলাসের আয়োজনে। যখন বাড়িতে বাড়িতে নানা প্রকার খাবার খেয়ে দিন অতিবাহিত করছেন মানুষজন।

বাড়িতে বাড়িতে চলছে গবাদি পশু কোরবানীর ধুমধাম। তখন সেই ঈদের দিনটিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে মা অবিনাম (৮০) ও মেয়ে ময়না (৫৫)। তারা দুজনই বিধবা। মা অবিনাম পেশায় একজন ভিক্ষুক ও মেয়ে ময়না পেশায় একজন দিনমজুর। তাদের বাড়ী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের নওয়াবস পাড়া গ্রামের গড়ের নামক এলাকায়।

শনিবার (১ আগষ্ট) দুপুর ২টায় সরেজমিনে গিয়ে জেলা সদরের পাঁচগাছি ইউনিয়নের নওয়াবস পাড়ার নদীরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নেয়া বানভাসী অবিনাম ও ময়না সহ অনেকেই না খেয়ে দিন অতিবাহিতের এমন চিত্র দেখা যায়।

জানা যায়, অবিনাম ও ময়না মা মেয়ে সম্পর্ক। মা অবিনাম ও মেয়ে ময়না দুজনই বিধবা। সংসারে তাদের আর কেউ নেই। তাদের নেই কোন আবাদী জমি। অবিনাম ভিক্ষা করেন। মেয়ে ময়না পেশায় একজন দিনমজুর। এক দিকে করোনার কারনে মায়ের ভিক্ষা ও মেয়ের দিনমজুরের কাজ বন্ধ।

অবিনামের মেয়ে ময়না জানান, এক মাসের ও বেশী সময় ধরে বাড়িতে পানি। গড়ে আশ্রয় নিয়েছি। সকাল থেকে না খেয়ে আছি। দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে কি খাব জানিনা। দীর্ঘ বন্যায় নামে মাত্র ৮-১০ কেজি চাউল পেয়েছি আবু মেম্বারের কাছ থেকে। তা দিয়ে কয় দিন খাবো। বন্যার এ কয়দিনে ৮-১০ কেজি চাউল সেটাও শেষ হয়ে আছে মাত্র আর তিন পোয়া। সেটা রান্না করলে আর খাওয়ার কিছুই থাকবেনা। এই তিন পোয়া চাউল রান্না করলে কি দিয়ে খাব। কোন তরকারী তো নেই। দিন মজুরের কাজ করে খাই। এক দিকে করোনার কারনে তিন-চার মাস কাজ বন্ধ ছিলো। তার মধ্যে দুই মাস ধরে বানের পানির কারনে অন্যের জমিতে দিন মজুরের কাজ বন্ধ। আমাদের মত গরীব মানুষদের খোঁজ খবর কেউ নেয় না।

একই এলাকার সিরাজুল ও সালমা জানান, পানি না থাকলে জমিতে কাজ করেন ময়না। দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু করোনা ও বন্যার কারনে সেটাও বন্ধ।

একই নদী রক্ষা বাঁধে আশ্রয় নেয়া জামিলা জানান, সকালে পানতা ভাত খেয়েছি। দুপুরে কিছুই খাইনি। স্বামী পঙ্গু। আমার দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here