বিয়ের ত’থ্য গো’পন করে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পু’লিশে যোগদান করেছেন আনিছুর রহমান। প্রশিক্ষণ শেষে থা’নায় যোগদানের পরপরই দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। চাকরি এবং দ্বিতীয় বিয়েতে গো’পন রাখেন প্রথম বিয়ের বি’ষয়টি।

আনিছুর রহমান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজে’লার শান্তিরাম ইউনিয়নের উত্তর শান্তিরাম এলাকার মৃ’ত রিয়াজুল হকের ছে’লে। বর্তমানে রাজশাহীর তানোর থা’নায় কর্ম’রত তিনি। তার পরিচিতি নম্বর বিপি- ৯১১৯২২৩৭০৯।

এ নিয়ে ২৫ অক্টোবর রাজশাহী জে’লা পু’লিশ সুপার বরাবর লিখিত অ’ভিযোগ দেন আনিছুরের প্রথম স্ত্রী’ রেবেকা সুলতানা মনি। ভু’ক্তভো’গী মনি গাইবান্ধা সদরের রুপারবাজারের উত্তর ঘাগোয়া কাটিহারা এলাকার মৃ’ত মোহাম্ম’দ আলীর মে’য়ে।

ঘ’টনাটি জানাজানি হওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রী’কে ছেড়ে আসার শর্তে প্রথম স্ত্রী’র কাছে ১৫ লাখ টাকা যৌ’তুক দাবি করেছেন এসআই আনিছুর। তা’তে রাজি না হয়ে ওই গৃ’হবধূ অ’ভি’যোগ দেয়ায় প্রা’ণনা’শের হু’ম’কি দেন।

বিয়েতে ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধা’র্য হয়। এতে ১১ হাজার টাকা মূ’ল্যের স্বর্ণের নাকফুল নগদ বাবদ বুঝিয়ে দিয়ে ইস’লামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়।

এরপর স্বা’মী-স্ত্রী’ হিসেবে তারা বসবাস করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি গ’র্ভধা’রণ করেন। ওই সময় জো’রপূর্বক তার গ’র্ভপা’ত ঘটা’ন আনিছুর।

এতে শা’রীরিক ও মা’নসিকভাবে ভে’ঙে পড়েন তিনি। ওই সময় তাকে হাসপাতা’লেও নেয়া হয়। স্বা’মী সংসারের কথা ভেবে সবকিছু তিনি মানিয়ে নেন। সবমিলিয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সু’খেই সংসার করেন মনি।

ওই গৃ’হবধূ আরও জানান, ২০১৮ সালে তার স্বা’মী আনিছুর পু’লিশ বাহিনীতে শা’রীরিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উ’ত্তীর্ণ হন। ট্রেনিং শেষে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থা’নায় এসআই পদে যোগদান করেন। এ সময় তিনি বিয়ের ত’থ্য গো’পন রাখেন।

মনির ভাষ্য, আনিছুর তাকে জানিয়েছিলেন পু’লিশ বিভাগের অনুমতি নিয়ে তিনি আবার বিয়ে করবেন। ততদিন বি’ষয়টি গো’পন রাখতে হবে। তিনি স্বা’মীর কথা রেখেছেন। কিন্তু নানা অজুহাতে ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমাতে থাকেন স্বা’মী। বিয়ের পাঁচ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভাগের অনুমতির অ’পেক্ষায় থাকার কথাও জানান তিনি।

লিখিত অ’ভিযোগে মনি উল্লেখ করেন, ২৯ অক্টোবর তাদের পঞ্চ’ম বিবাহ বার্ষিকী’ ছিল। আনিছুরের নির্দেশে সেদিন নিজ বাড়িতে তিনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে তার পু’লিশ স্বা’মীর উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যস্ততার অজুহাতে আনিছুর পরদিন অনুষ্ঠান পেছাতে বলেন। পরদিন অনুষ্ঠান আয়োজন হলেও বদলির কথা জানিয়ে মোবাইল নম্বর করে দেন।

স্বা’মীর এমন কা’ণ্ডে বি’ব্র’ত হন মনি ও তার স্বজনরা। পরদিন স্বজনদের স’ঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘ’টনা অব’হিত করেন মনি। ওই সময় তার বড় ভাইয়ের ফোনে কল করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাকে ঘরে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন আনিছুর। কিন্তু সপ্তাহ না পেরুতেই এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে স্বা’মীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানতে পারেন মনি।

জানা গেছে, আনিছুর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থা’নার পাঙ্গাসি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত না’রী সদস্য কুলছুম খাতুনের মে’য়ে বৃষ্টি খাতুনকে (২২) দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। প্রে’মের ফাঁ’দে ফে’লে মাস ছয়েক আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছা’ত্রীকে বিয়ে করেন আনিছুর। বি’ষয়টি স্বীকার করেছেন বৃষ্টির মা কুলছুম খাতুন। তিনি বলেন, মাস ছয়েক আগে তার পরিবার মে’য়ের বিয়ে ঠিক করেন এক এসআইয়ের স’ঙ্গে। ওই সময় মে’য়ে বিয়েতে আ’প’ত্তি জানায়। পরে এসআই আনছুরকে বিয়ের কথা জানায়।

গো’পনে তারা ছয় মাস আগে ঢাকায় ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছে। পরে তিনি আনিছুরের পরিবারের বি’ষয়ে খোঁ’জখব’র নেন। কিন্তু তার পরিবারও প্রথম বিয়ের কথা জানায়নি। কয়েকদিন হলো তিনি ও তার মে’য়ে বি’ষয়টি জানতে পেরেছেন।অ’ভি’যোগের বি’ষয়ে জানতে চাইলে এসআই আনিছুর রহমান বলেন, আগের বিয়ের অ’ভি’যোগ ভিত্তিহীন। আর এ নিয়ে আমি গণমাধ্যমে কথাও বলতে চাই না। এদিকে, এসআই আনিছুর রহমানের বি’রু’দ্ধে ওঠা অ’ভি’যোগ ত’দন্ত করেছেন রাজশাহীর সহকারী পু’লিশ সুপার (গোদাগাড়ী) আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, বি’ষয়টি ত’দন্তাধীন। ত’দন্ত শেষে প্রতিবেদন দেব।

অ’ভি’যোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জে’লা পু’লিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম। তিনি বলেন, অ’ভি’যোগের ত’দন্ত চলছে। প্রতিবেদন পেলে তার বি’রু’দ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here