জুমবাংলা ডেস্ক : বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে রোববার (২১ জুন) সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট ৬ সেকেন্ডে। পৃথিবী থেকে এটির শেষ দেখা যাবে বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে।

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলতে বোঝায় সূর্যের ও’পর চাঁদের ছায়া পড়ে। কিন্তু সেটা সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢাকতে পারবে না। চারপাশে লাল আলোর রিং বা বলয় দেখা যায়।

আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ রোনাকী খোন্দকার জানিয়েছেন, সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট ৬ সেকেন্ডে কঙ্গোর ইম্পফোল্ডো শহরে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হবে কঙ্গোর বো’মা শহরে ১০টা ৪৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। সর্বোচ্চ গ্রহণ ভারতের যোশীমঠ শহরে দেখা যাবে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট ৬ সেকেন্ডে।

কেন্দ্রীয় গ্রহণ শেষ হবে ফিলিপিনের সামার শহরে দুপুর ২টা ৩১ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। আর সূর্যগ্রহণ শেষ হবে ফিলিপিনের মিন্দানাও শহরে দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে।

যা করবেন, যা করবেন না

১. খালি চোখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সূর্য গ্রহণ দেখলেও তা রেটিনার ও’পর প্রভাব ফে’লে। যার কারণে একটা চোখে দৃষ্টিশ’ক্তিও হারাতে পারে মানুষ। তাই খালি চোখে এই গ্রহণ দেখতে না করেছে নাসা।

২. পেরিস্কো’পে, টেলিস্কোপ, সানগ্লাস বা দূরবীন, কোনও কিছুর সাহায্যে গ্রহণ দেখার সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে বারণ করা হয়েছে। গ্রহণের সময় সূর্য রশ্মি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে যা চোখে প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. সানগ্লাস বা ঘষা কাঁচ দিয়েও এই গ্রহণ দেখতে বারণ করেছে নাসা। কারণ, এইগুলো নিরাপদ না।

৪. বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিশেষ গ্রহণ গ্লাস বা সোলার ফিল্টার দিয়েই এই গ্রহণ দেখা উচিত।

৫. বাজারে আইএসও স্বীকৃত বিশেষ সোলার গ্লাস দিয়ে একমাত্র এই গ্রহণ দেখা নিরাপদ।

৬. সেসব গ্লাস ব্যবহারের আগে অবশ্যই ব্যবহার নির্দেশিকা পরে নিতে উপদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোনোভাবে সেই গ্লাস ভাঙা বা দাগ থাকলে ব্যবহার করতে না করেছে তারা।

৭. সূর্যগ্রহণ চলাকালীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র, খাবার খেতে বারণ করেছে। একমাত্র বৃ’দ্ধ, অ’সুস্থ ও গ’র্ভবতী না’রীরা হালকা খাবার নিতে পারবেন বলে বলা আছে। যদিও আধুনিক বিজ্ঞান এই দাবিকে মান্যতা দেয়নি।

৮. প্রাচীন ভারতীয় গাঁথা বলে, রাহুর গ্রাসে সূর্য। তাই গ্রহণ হয়, যা জনজীবনে প্রভাব ফে’লে। রো’গ-ব্যাধি ছড়ায়। সে কারণে আগেকার দিনে ভারতীয়রা রান্না বন্ধ রেখে বাইরে বেরিয়ে এসে সূর্য প্রণাম করতেন কিংবা স্নান করে শুদ্ধ হতেন।কিছু কিছু কুসংস্কার আবার এমন আছে, গ’র্ভবতী না’রীর গ’র্ভে থাকা বাচ্চার জন্য সূর্য গ্রহণ অত্যন্ত বি’পজ্জনক। তাই সেসব না’রীদের গ্রহণ চলাকালীন ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হতো না।

উল্লিখিত নিয়মগুলো বিভিন্ন শাস্ত্রমতে প্রসিদ্ধ। তবে সত্যতা যা-ই হোক না কেন, সতর্কতা অবলম্বন করতে দোষ কী?

কোনও খাবার খাওয়া উচিত কি না?

নিউট্রিশনিস্ট এবং ম্যাক্রোবায়োটিক হেলথ কোচ শিল্পা অরোরা মনে করেন, এটা এমন একটা সময় যখন আপনি নিজের পরিপাক তন্ত্রসহ শ’রীর ও মাথাকেও আরাম দেন।’ এই সময়টা-তে প্রচুর শ’ক্তির সৃষ্টি হয় সেই স’ঙ্গে দৃঢ় কম্পন দেখা যায়। সূর্য গ্রহণের সময় ধ্যানে মগ্ন থাকা ও শান্ত থাকা’টা খুবই জরুরি।

খাদ্য আমাদের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বি’ষয় সেটাকে অস্বীকার কোনও জায়গা নেই। শিল্পা অরোরা মনে করেন গ্রহণের সময় হালকা কিছু খাবার খাওয়াটা ভালো। তিনি মনে করেন, ”নিজের শ’রীরকে আরাম দেয়ার জন্য হালকা তরল পানীয়, শেক ও জুস্ পান করতে পারেন। পৃথিবীর কম্পন শ’ক্তি এই সময় বেশি থাকার জন্য আপনি লাভবান হবেন ও মা’নসিক দিক দিয়েও স্বচ্ছতা লাভ করতে পারবেন।

সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ পড়া

সূর্যগ্রহণ দেখার বা উদযাপন করার কোনো বি’ষয় নয়। সূর্যগ্রহণের সুন্নাত আমল হচ্ছে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, দোয়া করা, নামাজ পড়া এবং সাদকা করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব আমলগুলোর মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ অতিবাহিত করেছেন।

সূর্যগ্রহণ নিয়ে অনর্থক মাতামাতি, তা দেখতে যাওয়া কিংবা গল্প-গুজবে সময় ব্যয় না করে নামাজ ও প্রার্থনায় নিয়োজিত থাকা জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here